ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় প্রেসক্লাবে শিশু নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / ২৯৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় প্রেসক্লাবে শিশু নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

দেশে শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো “শিশু নিরাপদ জীবন : প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৫ মে ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে দেশের বর্তমান শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, হাম রোগের বিস্তার, প্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অসচেতনতা এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বক্তারা। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে চার শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কার্যক্রম ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মত দেন তারা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিল্পী ড. কাজী মোজ্জম্মেল হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. লেলিন চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শিশুদের সুস্থ বিকাশে পারিবারিক বন্ধন, মানবিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, “শিশুরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রেরও অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, “বর্তমান সময়ে শিশুরা নানা ধরনের সামাজিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ডা. সামিমা লুৎফর, প্রফেসর ড. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইদরিস এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক পরিষদের সভাপতি মো. জামাল হোসেন।

বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ রাখতে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে শিশুদের রক্ষা করতে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তারা আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনেক শিশু পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক চাপ ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজে অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় অনেকাংশে কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেমিনার শেষে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে সরকার, নাগরিক সমাজ ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবে শিশু নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার

আপডেট সময় : ০৪:২১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দেশে শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো “শিশু নিরাপদ জীবন : প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৫ মে ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে দেশের বর্তমান শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, হাম রোগের বিস্তার, প্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অসচেতনতা এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বক্তারা। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে চার শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কার্যক্রম ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মত দেন তারা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিল্পী ড. কাজী মোজ্জম্মেল হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. লেলিন চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শিশুদের সুস্থ বিকাশে পারিবারিক বন্ধন, মানবিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, “শিশুরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রেরও অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, “বর্তমান সময়ে শিশুরা নানা ধরনের সামাজিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ডা. সামিমা লুৎফর, প্রফেসর ড. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইদরিস এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক পরিষদের সভাপতি মো. জামাল হোসেন।

বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ রাখতে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে শিশুদের রক্ষা করতে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তারা আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনেক শিশু পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক চাপ ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজে অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় অনেকাংশে কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেমিনার শেষে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে সরকার, নাগরিক সমাজ ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।