দর্শনা-জয়নগর স্থল বন্দরে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ, ভ্রমণ ও ব্যবসায় বড় ধাক্কা
- আপডেট সময় : ০৩:২২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / ৩০১ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল। ঐতিহাসিক রেল যোগাযোগ, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকল এবং ভারত-বাংলাদেশের সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বহু বছর ধরেই এই অঞ্চলটি বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বর্তমানে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।
দর্শনার জয়নগর এলাকায় স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই সীমান্তপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতেন। করোনা মহামারির কারণে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের ২ মার্চ পুনরায় চালু হয় দর্শনা-গেদে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট।
তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ভারত সরকার ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপ করলে যাত্রী পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়া অন্যান্য ভিসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যাতায়াতকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী এই বন্দর ব্যবহার করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জনে। যাত্রী কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা জানান, ভারতের নাগরিকরা আগের মতো বাংলাদেশে আসতে পারলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে কেবল মেডিকেল ভিসা সীমিত আকারে চালু রয়েছে। প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অচিরেই পুনরায় ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে এবং খুব শিগগিরই সীমিত আকারে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দর্শনা সীমান্তে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেকপোস্টে বর্তমানে আগের মতো ভিড় নেই। যাত্রীরা অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করতে পারছেন। দর্শনা থেকে ভারতের গেদে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম হওয়ায় ভ্যানে কিংবা হেঁটেও যাওয়া সম্ভব।
গেদে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের পাশেই রয়েছে রেলস্টেশন। সেখান থেকে ট্রেনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছানো যায়। কম খরচে ভ্রমণের সুবিধার কারণে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক মানুষ এই রুট ব্যবহার করে থাকেন।
যাত্রীরা জানান, দর্শনা-গেদে রুটে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ ও কম ব্যয়বহুল হলেও যাত্রীসেবার মান আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ডার এলাকায় যাতায়াত ভাড়া সরকারি ভাবে নির্ধারণ এবং ইমিগ্রেশন পয়েন্টে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন।
দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহবুব-উল ইসলাম খোকন বলেন,
“দর্শনা-গেদে এবং দৌলতগঞ্জ-মাইজদিয়া এলাকায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালু হলে বাণিজ্য ও পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা ব্যবস্থা চালু করা গেলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
দর্শনা রেলবাজারের ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
“ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপ-পরিদর্শক তুহিন জানান,
“স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। বর্তমানে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে।”
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম চালু হলে সীমান্তকেন্দ্রিক অর্থনীতি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।












