ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪

চুয়াডাঙ্গা জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে। শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমির হামজা (৮ মাস) নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুটি জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন কুড়ালগাছি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীমের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং দুর্বলতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরা (৯ মাস) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক শিশুর মৃত্যু জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মোট ১৭ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন রোগী। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

জেলার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মোট ৭৪ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের, যার মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিশু রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।”

তিনি আরও জানান, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক বেড সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকাদান এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এখন সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় হামের এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।

চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪

আপডেট সময় : ০৩:২০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে। শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমির হামজা (৮ মাস) নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুটি জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন কুড়ালগাছি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীমের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং দুর্বলতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরা (৯ মাস) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক শিশুর মৃত্যু জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মোট ১৭ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন রোগী। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

জেলার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মোট ৭৪ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের, যার মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিশু রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।”

তিনি আরও জানান, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক বেড সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকাদান এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এখন সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় হামের এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।